চাল কুমড়া
চাল কুমড়া, যা “পরবর্তী মৌসুমের কুমড়া”, “শীতকালীন কুমড়া”, “সাদা কুমড়া” এবং “ট্যালো কুমড়া” নামেও পরিচিত, বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি। এটি লতা জাতীয় উদ্ভিদের ফল, যা বিশাল আকারের হয় এবং সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয় অথবা মোরব্বা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
চাল কুমড়া এর পুষ্টিগুণ:
চাল কুমড়ার পুষ্টি উপাদান টেবিল (প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা চাল কুমড়া)
পুষ্টি উপাদান | পরিমাণ |
---|---|
ক্যালোরি | ১৫ |
জল | ৯২.৫ গ্রাম |
প্রোটিন | ০.৬ গ্রাম |
চর্বি | ০.১ গ্রাম |
কার্বোহাইড্রেট | ৩.১ গ্রাম |
খনিজ পদার্থ | ০.৪ গ্রাম |
ফাইবার | ১.৫ গ্রাম |
ভিটামিন সি | ৩০ মিলিগ্রাম |
ভিটামিন এ | ৪০০ আইইউ |
পটাশিয়াম | ২২০ মিলিগ্রাম |
ম্যাগনেসিয়াম | ১৫ মিলিগ্রাম |
ক্যালসিয়াম | ১০ মিলিগ্রাম |
ফসফরাস | ২৫ মিলিগ্রাম |
লোহা | ০.৫ মিলিগ্রাম |
জিঙ্ক | ০.৩ মিলিগ্রাম |
ম্যাঙ্গানিজ | ০.১ মিলিগ্রাম |
চাল কুমড়ার উপকারিতা:

চাল কুমড়া খাওয়ার ফলে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
- হজমশক্তি উন্নত করে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এতে থাকা পানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে।
- চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে যা চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে এবং চুল পড়া রোধ করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: চাল কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
- ওজন কমাতে সাহায্য করে: চাল কুমড়ায় ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে। ফলে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- অন্যান্য উপকারিতা: চাল কুমড়া ক্যান্সার প্রতিরোধে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
আরোও পড়ুন
ঘেট কচুর পুষ্টিউপাদান, উপকারিতা ও অপকারিতা।
চাল কুমড়ার কিছু অপকারিতা
সম্ভাব্য অপকারিতাগুলির মধ্যে রয়েছে:
- গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল সমস্যা: কিছু লোকের ক্ষেত্রে, চাল কুমড়া গ্যাস, পেট ফোলাভাব এবং ডায়রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।
- হাইপোগ্লাইসেমিয়া: ডায়াবেটিস রোগীদের চাল কুমড়া খাওয়ার পরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করে।
- অ্যালার্জি: কিছু লোকের চাল কুমড়ার প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ফুসকুড়ি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং গলাব্যথা।
চাল কুমড়া খাওয়ার সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
- যদি আপনার পেটের সমস্যা থাকে, যেমন গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসার, তাহলে চাল কুমড়া সীমিত পরিমাণে খান।
- যদি আপনি ডায়াবেটিস রোগী হন, তাহলে চাল কুমড়া খাওয়ার পরে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
- যদি আপনার চাল কুমড়ার প্রতি অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা খাওয়া বন্ধ করুন এবং ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
চাল কুমড়ার মোরব্বা রেসিপি:

চাল কুমড়ার মোরব্বা একটি জনপ্রিয় বাঙালি মিষ্টি যা তৈরি করা সহজ এবং খেতে সুস্বাদু।
উপকরণ:
- পাকা চাল কুমড়া – ২ কেজি
- চিনি – ১ কেজি
- পানি – ১ কাপ
- এলাচ – ৪-৫ টি
- দারুচিনি – ১ টুকরো
- ঘি – ১ টেবিল চামচ
প্রণালী:
১. চাল কুমড়াটি ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। ২. একটি পাত্রে কুমড়ার টুকরো, পানি, এলাচ এবং দারুচিনি দিয়ে চুলায় বসিয়ে দিন। ৩. পানি ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে দিন এবং ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন। ৪. কুমড়া নরম না হওয়া পর্যন্ত (প্রায় ১৫-২০ মিনিট) রান্না করুন। ৫. কুমড়া নরম হয়ে গেলে চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ৬. চিনি গলে পানি শুকিয়ে गाढ़া না হওয়া পর্যন্ত মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ৭. মোরব্বা गाढ़া হয়ে এলে নামিয়ে ফেলুন এবং ঘি দিয়ে মিশিয়ে নিন। ৮. মোরব্বা ঠান্ডা হয়ে গেলে একটি পরিষ্কার ও শুষ্ক কাচের জারে ভরে নিন।
পরিবেশন:
চাল কুমড়ার মোরব্বা রুটি, পরোটা, নানকটা, বা এমনকি তেমনিও খেতে পারেন।
টিপস:
- আপনি চাইলে মোরব্বায় কাজু, কিশমিশ, বা বাদাম যোগ করতে পারেন।
- মোরব্বা বেশি দিন ধরে ভালো রাখতে চাইলে, এটি তৈরি করার সময় চিনির পরিমাণ একটু বেশি দিতে পারেন।
- মোরব্বা ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
This Article is written with the help of GEMINI