Skip to content
Home » MT Articles » লিচুর উপকারিতা ও অপকারিতা।

লিচুর উপকারিতা ও অপকারিতা।

লিচুর উপকারিতা

লিচু

ষড় ঋতুর এই দেশে বিভিন্ন মৌসুমে পাওয়া যায় নানান পুষ্টিকর ফল। এসব ফল আমাদের শরীরের পুষ্টিচাহিদা পূরণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনই একটি ফল লিচু।লিচু হলো একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল যা এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে জন্মে। এটি একটি ছোট, গোলাকার ফল যা হালকা লাল বা গোলাপী রঙের। লিচুর শাঁস সাদা এবং মিষ্টি, এবং এর মধ্যে একটি ছোট, শক্ত বিচি থাকে। লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ভিটামিন বি, পটাশিয়াম এবং ফাইবারেরও ভাল একটি উৎস।

লিচুর পুষ্টি উপাদান:

  • ক্যালোরি: 52
  • কার্বোহাইড্রেট: 13 গ্রাম
  • প্রোটিন: 1 গ্রাম
  • ফ্যাট: 0.5 গ্রাম
  • ফাইবার: 2 গ্রাম
  • ভিটামিন সি: 53% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)
  • ভিটামিন বি6: 15% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)
  • পটাশিয়াম: 10% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)
  • ম্যাগনেসিয়াম: 5% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)
  • কপার: 10% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)
  • ফোলেট: 10% (দৈনিক চাহিদা পূরণ করে)

লিচুর যত উপকারিতা: 

লিচুর উপকারিতা

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যালসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সাহায্য করে।লিচুতে থাকা অলিগোনল ভাইরাসের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই গরমের সময়ে নিয়মিত লিচু খেলে বাঁচতে পারবেন সর্দি ও সাধারণ ফ্লু থেকে।

হার্টকে সুস্থ রাখে: লিচুতে পটাশিয়াম রয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: লিচুতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি এবং বিস্তারকে বাধা দিতে সাহায্য করে।

কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়: লিচুতে পর্যাপ্ত পানি এবং পটাসিয়াম থাকায়, কিডনিতে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এই ফলটি শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্বও কমায়। যে কারণে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।

ত্বককে সুস্থ রাখে: লিচুতে ভিটামিন সি রয়েছে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বককে ক্ষতিকর সূর্য রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে উজ্জ্বল এবং মসৃণ রাখতেও সাহায্য করে।

কার্যকরী ব্যথানাশক: লিচু একটি কার্যকরী ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটি খেলে প্রদাহ কমে । সেইসঙ্গে এটি শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

চুলকে সুস্থ রাখে: লিচুতে ভিটামিন বি6 রয়েছে, যা চুলের বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি চুলকে ঝরঝরে এবং চকচকে রাখতেও সাহায্য করে।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়: লিচুতে ফাইবার রয়েছে, যা হজমকে সহজ করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে: লিচুতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকে। এটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আরোও পড়ুন

জ্বর কী, কেন হয়, কাদের বেশি হয় ? জ্বর কত প্রকার ?

সতর্কতা:

খেতে সুস্বাদু হলেও ইচ্ছেমতো লিচু খাওয়ার সুযোগ নেই। দিনে ১০-১২ টি লিচু খাওয়া যেতে পারে। বয়স, শরীর, অসুস্থতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিমিতভাবে লিচু বা যেকোনো ফল খেতে হবে।

লিচুর অপকারিত

বেশি লিচু খেলে কী ক্ষতি হতে পারে ?

  • মাত্রাতিরিক্ত লিচু খেলে রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।
  • লিচুতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, জরুরি ফ্যাটি অ্যাসিড নেই। ফলে বেশি পরিমাণে লিচু খেলে তা শরীরের স্বাভাবিক ব্যালেন্স নষ্ট করতে পারে।
  • খালি পেটে লিচু খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
  • অতিরিক্ত লিচু খাওয়া অনেক সময় লো প্রেশারের রোগীর বুক ধড়ফড় সমস্যার সৃষ্টি করে। যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের লিচু খাওয়ার সময়ে সতর্ক থাকতে হবে।
error: Content is protected !!