মৌশিম বা কলা শিম
“মৌশিম” শব্দটি হয়তো একটু অপরিচিত শোনালেও, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই নামে পরিচিত এক ধরনের শিম রয়েছে। এই শিমটি সাধারণত অন্যান্য শিমের মতোই পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিছু এলাকায় এই শিম কলা শিম নামেও পরিচিত। মৌশিম বা কলা শিমে ভিটামিন এ, সি, কে, ফোলেট, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং জিংক এর মত অত্যন্ত প্রয়েজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। চলুন মৌশিম বা কলা শিম সম্পর্কে কিছু তথ্য ও এই মৌশিম বা কলা শিম এর পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
মৌশিম বা কলা শিমের বৈশিষ্ট
মৌ শিম বা কলা শিম একটি লতানো, বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ, যার ফলের আকৃতির জন্যই এই নামকরণ করা হয়েছে।শিমটি দেখতে অন্যান্য শিমের মতই, তবে আকৃতিতে বেশ বড় ও কলার মত একটু বাঁকানো। সবজিটিরি রং সবুজ।ভিতরে বেশ বড় বড় বীজ থাকে যা শিমের বীজের মতই পুষ্টিকর। মাদাগাস্কার, তানজানিয়া, বাংলাদেশ এবং ভারতের মতো দেশগুলোতে এটি একটি জনপ্রিয় সবজি হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশে এই শিমকে গারো শিম, হাতী শিম, রাজ শিম, মাখন শিম ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। বিশেষ করে গারো পাহাড় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে এটি বেশি জন্মায়।এছাড়াও খুলনা ও বরিশালেও সবজিটি বেশ পরিচিত জনপ্রিয়। এই শিমের ভর্তা খুবই সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়দের ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কাছে এটি একটি প্রিয় খাবার।
মৌ শিমের বিশেষত্ব:
- আবাদি জাত: মানুষের চাষাবাদের মাধ্যমে এই শিম উৎপাদিত হয়।
- লতানো উদ্ভিদ: এই শিমের গাছ লতা হিসেবে মাটিতে বা চালায় ছড়িয়ে পড়ে।
- বহুবর্ষজীবী: একবার জন্মালে বহু বছর ধরে ফল দেয়।
- স্বাদ: এর ভর্তা খুব সুস্বাদু।

মৌ শিম বা কলা শিমের পুষ্টিগুণ:
কলা শিম একটি পুষ্টিকর সবজি যা ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। নিচে কলা শিমের পুষ্টি উপাদান পরিমাণসহ দেওয়া হল:
পুষ্টি উপাদান | পরিমাণ |
ক্যালোরি | 51 কিলোক্যালরি |
কার্বোহাইড্রেট | 7.2 গ্রাম |
প্রোটিন | 3.6 গ্রাম |
ফ্যাট | 0.2 গ্রাম |
খাদ্যআঁশ | 3.5 গ্রাম |
ফোলেট | 25 মাইক্রোগ্রাম |
নিয়াসিন | 1 মিলিগ্রাম |
ভিটামিন সি | 20.1 মিলিগ্রাম |
ভিটামিন এ | 386 আইইউ |
ভিটামিন ই | 0.36 মিলিগ্রাম |
ভিটামিন কে | 54 মাইক্রোগ্রাম |
সোডিয়াম | 8 মিলিগ্রাম |
পটাসিয়াম | 311 মিলিগ্রাম |
ক্যালসিয়াম | 78 মিলিগ্রাম |
ম্যাগনেসিয়াম | 53 মিলিগ্রাম |
ফসফরাস | 67 মিলিগ্রাম |
জিংক | 0.62 মিলিগ্রাম |
ক্যারটিন-বি | 234 মাইক্রোগ্রাম |
লুটেইন | 575 মাইক্রোগ্রাম |
মৌশিম বা কলা শিমের উপকারিতা
মৌশিম বা কলা শিম একটি স্থানীয়ভাবে খুব জনপ্রিয় সবজি, বিশেষ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে। এর সুস্বাদু ভর্তা অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু এই সুস্বাদু সবজিটি শুধু স্বাদের জন্যই বিখ্যাত নয়, এর উপকারিতাও কম নয়।
- প্রোটিন: শরীর গঠন ও মেরামতের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি।
- ফাইবার: হজম শক্তি বাড়াতে এবং পেট ভরে রাখতে ফাইবারের ভূমিকা অপরিমেয়।
- ভিটামিন: বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন কে ইত্যাদি, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- খনিজ পদার্থ: আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ইত্যাদি খনিজ পদার্থ শরীরের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে।
আরোও পড়ুন
খই ফল: খই ফলের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা ও অপকাতিা।
মৌশিমের অন্যান্য সম্ভাব্য উপকারিতা:
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে: অন্যান্য শিমের মতো মৌশিমেও ফাইবার এবং পটাশিয়াম থাকতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে: পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে: ফাইবার হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
- ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিম জাতীয় সবজি ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
অপকারিতা
সাধারণত, শিম জাতীয় সবজি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
মৌশিম বা কলা শিম খাওয়ার সম্ভাব্য অপকারিতা ও সতর্কতা:
- অ্যালার্জি: কিছু মানুষের শিমের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে। যদি আপনার শিম খাওয়ার পর কোনো অস্বস্তি, ফুসকুড়ি, বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- পেট ফাঁপা: অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে কিছু মানুষের পেট ফাঁপা বা গ্যাস হতে পারে। ধীরে ধীরে শিম খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে এই সমস্যা কমাতে পারেন।
- কিডনি সমস্যা: কিডনি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিম খাওয়া উচিত নয়।
- অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: যদি আপনার কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকে, তাহলে শিম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সাধারণত, মৌশিম বা কলা শিম খাওয়া নিরাপদ। তবে, যদি আপনার কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে বা শিম খাওয়ার পর কোনো অস্বস্তি বোধ করেন, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।