Skip to content
Home » MT Articles » থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।

থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।

থানকুনি পাতা

থানকুনি পাতা


থানকুনি পাতা, যা ‘মণ্ডুকপর্ণী’ নামেও পরিচিত, ঔষধি গুণাগুণে ভরা একটি ভেষজ। থানকুনি পাতার বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। এটি ছোট, সবুজ পাতাযুক্ত একটি লতানো উদ্ভিদ যা জলাভূমি, পুকুর পাড় এবং আর্দ্র স্থানে সহজেই জন্মে। থানকুনি পাতা দীর্ঘকাল ধরে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

থানকুনি
থানকুনি পাতা


থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ:

পুষ্টি উপাদানপরিমাণ (প্রতি 100 গ্রাম)
ক্যালোরি48
জল87.8 গ্রাম
প্রোটিন2.6 গ্রাম
চর্বি0.5 গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট8.9 গ্রাম
খনিজ
ক্যালসিয়াম170 মিলিগ্রাম
আয়রন6.1 মিলিগ্রাম
পটাসিয়াম558 মিলিগ্রাম
ম্যাগনেসিয়াম53 মিলিগ্রাম
ফসফরাস64 মিলিগ্রাম
জিঙ্ক0.6 মিলিগ্রাম
ভিটামিন
ভিটামিন এ6,486 IU
ভিটামিন বি10.12 মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি20.21 মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি31.05 মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি60.19 মিলিগ্রাম
ভিটামিন সি23.7 মিলিগ্রাম
ভিটামিন ই1.4 মিলিগ্রাম
ফোলেট22 মিলিগ্রাম
অন্যান্য
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপ্রচুর পরিমাণে
অ্যামিনো অ্যাসিডথ্রিওনিন, লাইসিন, মেথিওনিন
টেরপেনয়েডসএশিয়াটিকোসাইড, ম্যাডেকাসসোসাইড, এশিয়াটিক অ্যাসিড
থানকুনি পাতার পুষ্টিগুণ

থানকুনি পাতার উপকারিতা:

মস্তিষ্কের জন্য:

  • স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করে
  • মনোযোগ বাড়ায়
  • উদ্বেগ ও অবসাদ কমাতে সাহায্য করে

ত্বকের জন্য:

  • ব্রণ ও ব্রণ দাগ দূর করে
  • ত্বকের প্রদাহ কমায়
  • ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে
  • বয়সের ছাপ দূর করে

আরোও পড়ুন

রসুনের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা। রসুন কেন খাবেন?

শরীরের জন্য:

  • ক্ষত সারাতে সাহায্য করে
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে
  • হজমশক্তি উন্নত করে
  • লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম:

  • কাঁচা পাতা খাওয়া: থানকুনি পাতার কাঁচা রস বের করে খাওয়া যেতে পারে। এটি স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • পাতা দিয়ে তরকারি তৈরি: থানকুনি পাতা দিয়ে বিভিন্ন ধরণের তরকারি তৈরি করা যায়।
  • পাতা দিয়ে চা তৈরি: থানকুনি পাতা দিয়ে চা তৈরি করে পান করা যায়। এটি ত্বকের জন্য উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • পাতা দিয়ে তেল তৈরি: থানকুনি পাতা দিয়ে তেল তৈরি করে ত্বক ও চুলে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বক ও চুলের যত্নে ভালো কাজ করে।
থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম


থানকুনি পাতার অপকারিতা/পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য: থানকুনি পাতা গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। তাই গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের থানকুনি পাতা ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • লিভারের সমস্যা: যাদের লিভারের সমস্যা আছে তাদের থানকুনি পাতা ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ থানকুনি পাতা লিভারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করতে পারে।
  • অ্যালার্জি: কিছু লোকের থানকুনি পাতার প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে। ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে থানকুনি পাতা ব্যবহার বন্ধ করে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
  • রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া: থানকুনি পাতা রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। তাই যারা এই ওষুধগুলো গ্রহণ করেন তাদের থানকুনি পাতা ব্যবহারের পূর্বে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
  • অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে: থানকুনি পাতা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহারের ফলে পেট খারাপ, বমি বমি ভাব, এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
error: Content is protected !!