কলমি শাক
কলমি শাক বাংলাদেশের খাবারের তালিকায় একটি জনপ্রিয় সবজি। এর সবুজ পাতা এবং মিষ্টি স্বাদ একে অনন্য করে তুলেছে। কলমি শাক শুধু সুস্বাদুই নয়, এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ।
কলমি শাকের পুষ্টিগুণ:
পুষ্টি উপাদান | পরিমাণ (প্রতি 100 গ্রাম) | উপকারিতা |
---|---|---|
ক্যালোরি | কম | ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে |
আঁশ | উচ্চ | হজম শক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে |
ভিটামিন সি | উচ্চ | রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে |
আয়রন | মাঝারি | রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে |
ক্যালসিয়াম | মাঝারি | হাড় এবং দাঁত মজবুত করে |
ফোলেট | মাঝারি | শরীরের কোষ গঠনে সহায়তা করে |
পটাশিয়াম | মাঝারি | রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে |
কলমি শাকের উপকারিতা:

হজম শক্তি বাড়ায়
- আঁশ সমৃদ্ধ: কলমি শাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: আঁশ হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
- ভিটামিন সি: কলমি শাকে ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: এই শাকে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে মুক্ত র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে
- আয়রন সমৃদ্ধ: এটি আয়রনের একটি ভালো উৎস। আয়রন শরীরে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে।
হাড় মজবুত করে
- ক্যালসিয়াম: কলমি শাকে ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড় এবং দাঁতকে মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বয়স্কদের জন্য এই শাকটি খুবই উপকারী।
আরোও পড়ুন
কলই শাক কি? কলই শাকের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।
ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
- ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: কলমি শাকের বিভিন্ন ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কলমি শাকে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে: কলমি শাকে ভিটামিন এ থাকে যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- ওজন কমানোতে সাহায্য করে: কলমি শাক ক্যালোরিতে কম এবং আঁশে ভরপুর, যা ওজন কমানোতে সাহায্য করে।
কলমি শাক এর অপকারিতা:

সাধারণত কলমি শাককে একটি স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর সবজি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, কিছু বিষয় বিবেচনায় রেখে এটি খাওয়া উচিত:
- অ্যালার্জি: খুব কম ক্ষেত্রে, কিছু ব্যক্তির কলমি শাকের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে। যদি কলমি শাক খাওয়ার পর আপনার কোনো অস্বস্তি, ফুসকুড়ি, বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- কীটনাশক: বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা কলমি শাকে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে। তাই যতটা সম্ভব জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা কলমি শাক খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- অন্যান্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধের সাথে কলমি শাকের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যদি আপনি কোনো ওষুধ সেবন করেন, তাহলে এটি খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
- অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ: যে কোনো খাবারই অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ক্ষতিকর হতে পারে। কলমি শাকও এর ব্যতিক্রম নয়।
কলমি শাক রান্নার বিভিন্ন উপায়:
- ভাজি
- ঝোল
- ভর্তা
- পাকোড়া
This article is written with the help of Gemini