Skip to content
Home » MT Articles » লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা, অপকারিতা ও ব্যবহার।

লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা, অপকারিতা ও ব্যবহার।

লজ্জাবতী গাছ

লজ্জাবতী গাছ

লজ্জাবতী গাছ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Mimosa pudica, মিমোসাসি পরিবারের একটি ছোট লতানো গাছ। লজ্জাবতী গাছের ইংরেজি নাম Mimosa arenosa (Willd.)। এটি সারা বিশ্বের উষ্ণ ও ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়, বিশেষ করে আমেরিকা, আফ্রিকা এবং এশিয়ায়।লজ্জাবতী গাছ তার স্পর্শ-সংবেদনশীল পাতার জন্য সুপরিচিত। যখন পাতাগুলি স্পর্শ করা হয়, তখন তারা দ্রুত ভাঁজ হয়ে যায় এবং কয়েক মিনিট পরে আবার খোলে যায়। এই প্রক্রিয়াটি “থিগমোনাস্টি” নামে পরিচিত এবং এটি পাতায় জল নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।লজ্জাবতী গাছ পাতলা, সূক্ষ্ম ডালপালা এবং ছোট, গোলাপী বা সাদা ফুল ধারণ করে। ফুলগুলি ছত্রাক আকারে থাকে এবং প্রজাপতি এবং মৌমাছির মতো পরাগায়নকারীদের আকর্ষণ করে।লজ্জাবতী গাছ ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। পাতা, ফুল এবং বীজগুলি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে ত্বকের সংক্রমণ, জ্বর এবং ব্যথা।

লজ্জাবতী গাছের বৈশিষ্ট্য:

বর্ণনা:

  • লজ্জাবতী গাছ ঝোপঝাড় জাতীয়, লতানো, এবং বহুবর্ষী উদ্ভিদ।
  • এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে জন্মে।
  • বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সহজলভ্য।
  • পাতা যৌগপত্রী, পত্রাবলী 3-6 জোড়ায় বিভক্ত, প্রতিটি জোড়ায় 20-30 টি পত্রিকা থাকে।
  • পাতা স্পর্শ করলে বা ঝাঁকুনি দিলে দ্রুত ভাঁজ হয়ে যায়, যার জন্য একে লজ্জাবতী বলা হয়।
  • ফুল গুচ্ছাকার, গোলাপী বা লালচে রঙের।
  • বীজ শুঁটিতে থাকে।
লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা

লজ্জাবতী গাছের উপকারিতা:

লজ্জাবতী গাছ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Mimosa pudica, শুধু তার স্পর্শ-সংবেদনশীল পাতার জন্যই আকর্ষণীয় নয়, বরং এর ঔষধি গুণাবলীর জন্যও পরিচিত।

লজ্জাবতী গাছের কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা :

ত্বকের যত্ন:

  • ত্বকের সংক্রমণ: লজ্জাবতী পাতার রস ত্বকের সংক্রমণ, যেমন ফোঁড়া, ক্ষত এবং চুলকানি চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মুখের ব্রণ: লজ্জাবতী পাতার রস বা গুঁড়া ব্যবহার করে মুখের ব্রণ ও টানটান ভাব আনা সম্ভব।
  • সোরিয়াসিস: লজ্জাবতী পাতার রস সোরিয়াসিসের লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।

আরোও পড়ুন

বাসক পাতার উপকারিতা, অপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম।

অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা:

  • জ্বর: লজ্জাবতী পাতার রস জ্বর কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • ব্যথা: লজ্জাবতী পাতার রস ব্যথা উপশম করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন মাথাব্যথা এবং গেঁটেবাতের ব্যথা।
  • অস্থিসন্ধিবাত: লজ্জাবতী পাতার রস অস্থিসন্ধিবাতের লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
  • ডায়রিয়া: লজ্জাবতী বীজের গুঁড়া (সতর্কতা অবলম্বন করুন কারণ বীজ বিষাক্ত) ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণ: লজ্জাবতী পাতার রস মূত্রনালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: লজ্জাবতী পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
  • ক্যান্সার: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে লজ্জাবতী গাছের কিছু উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করতে পারে।তবে, আরও গবেষণার প্রয়োজন।

লজ্জাবতী গাছের অপকারিতা:

লজ্জাবতী গাছের কিছু সম্ভাব্য অপকারিতা:

  • গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য অনিরাপদ: লজ্জাবতী গাছের কিছু উপাদান গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হয়। স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও এই গাছ এড়ানো উচিত কারণ এর প্রভাবগুলি শিশুর উপর পরিণত হতে পারে।
  • এলার্জির প্রতিক্রিয়া: কিছু লোকের লজ্জাবতী গাছের প্রতি এলার্জি থাকতে পারে, যার ফলে ত্বকের চুলকানি, ফোলাভাব এবং এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
  • রক্তচাপ কমাতে পারে: লজ্জাবতী গাছের কিছু উপাদান রক্তচাপ কমাতে পারে। যদি আপনি ইতিমধ্যেই রক্তচাপের ওষুধ খান তবে এই গাছ ব্যবহার করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
  • লিভারের ক্ষতি করতে পারে: অতিরিক্ত পরিমাণে লজ্জাবতী গাছ সেবন লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
  • মিথস্ক্রিয়া ঘটাতে পারে: লজ্জাবতী গাছ কিছু ওষুধের সাথে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। আপনি যদি কোনও ওষুধ খান তবে এই গাছ ব্যবহার করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
লজ্জাবতী গাছের অপকারিতা

লজ্জাবতী গাছ খাওয়ার নিয়ম ও ব্যবহার:

লজ্জাবতী গাছের পাতা, ফুল এবং বীজ ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। তবে, লজ্জাবতী গাছের বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত এবং খাওয়া উচিত নয়।

লজ্জাবতী গাছের পাতা এবং ফুল খাওয়ার নিয়ম:

পাতা:

  • পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা চা তৈরি করে পান করা যায়।
  • তাজা পাতা পেস্ট করে ত্বকের সংক্রমণের উপর প্রয়োগ করা যায়।
  • পাতা জ্বর ও ব্যথার ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

ফুল:

  • ফুল শুকিয়ে গুঁড়ো করে তা চা তৈরি করে পান করা যায়।
  • তাজা ফুল ত্বকের সংক্রমণের উপর প্রয়োগ করা যায়।

সতর্কতা:

  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের লজ্জাবতী গাছ খাওয়া উচিত নয়।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের লজ্জাবতী গাছ খাওয়ার আগে তাদের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
  • লজ্জাবতী গাছের সাথে কিছু ওষুধের মিথস্ক্রিয়া হতে পারে।
  • লজ্জাবতী গাছ খাওয়ার আগে একজন ডাক্তার বা ঔষধবিদের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।

লজ্জাবতী গাছের ঔষধি গুণাবলীর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।

লজ্জাবতী গাছ খাওয়ার পূর্বে একজন ডাক্তার বা ঔষধবিদের সাথে পরামর্শ করা সর্বদা সর্বোত্তম।

লজ্জাবতী গাছের কিছু ঔষধি ব্যবহার:

  • ত্বকের সংক্রমণ: লজ্জাবতী পাতার রস ত্বকের সংক্রমণ, যেমন ফোঁড়া, ক্ষত এবং চুলকানি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • জ্বর: লজ্জাবতী পাতার রস জ্বর কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • ব্যথা: লজ্জাবতী পাতার রস ব্যথা উপশম করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন মাথাব্যথা এবং গেঁটেবাতের ব্যথা।
  • অস্থিসন্ধিবাত: লজ্জাবতী পাতার রস অস্থিসন্ধিবাতের লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।
  • ডায়রিয়া: লজ্জাবতী বীজের গুঁড়া ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে, সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ কারণ বীজ বিষাক্ত।
লজ্জাবতী গাছের ফুল

লজ্জাবতী গাছ ব্যবহারের পদ্ধতি:

  • ত্বকের সংক্রমণ: লজ্জাবতী পাতা ধুয়ে পেস্ট তৈরি করুন এবং সংক্রমিত এলাকায় প্রয়োগ করুন।
  • জ্বর: লজ্জাবতী পাতা এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে চা তৈরি করুন। ঠান্ডা করে ছেঁকে পান করুন।
  • ব্যথা: লজ্জাবতী পাতা গরম করে ব্যথার উপর প্রয়োগ করুন।
  • অস্থিসন্ধিবাত: লজ্জাবতী পাতা এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে চা তৈরি করুন। ঠান্ডা করে ছেঁকে পান করুন।
  • ডায়রিয়া: লজ্জাবতী বীজের গুঁড়া (সতর্কতা অবলম্বন করুন কারণ বীজ বিষাক্ত) এক চা চামচ দিনে তিনবার পানি দিয়ে খান।

লজ্জাবতী গাছ ব্যবহার করার আগে সতর্কতা:

  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের লজ্জাবতী গাছ ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • লজ্জাবতী গাছের বীজ বিষাক্ত। বীজ ব্যবহার করার সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • আপনার যদি কোনও ঔষধের অ্যালার্জি থাকে তবে লজ্জাবতী গাছ ব্যবহার করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
  • লজ্জাবতী গাছ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়। যদি আপনি দীর্ঘ সময় ধরে লজ্জাবতী গাছ ব্যবহার করতে চান তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

This article is written with the help of Gemini

সম্পর্কিত:

সয়াবিন তেল: সয়াবিন তেলের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।

March 19, 2025

মাষকলাই ডালের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা, অপকারিতা ও রান্না প্রণালী।

September 18, 2023

চিনাবাদাম কি? চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।

December 11, 2023

ফ্যাসা মাছ: ফ্যাসা মাছের জাদুকরী পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে রাখুন।

December 10, 2024

চিতল মাছের মজাদার সব রেসিপি।

January 29, 2024

ঝিঙে সবজি: ঝিঙের পুষ্টিগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা।

October 3, 2024

বাইন মাছ: স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এক খাবার। স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদুও বটে।

December 9, 2024

হার্ট সুস্থ রাখতে ১০ টি খাবার।

October 15, 2023

চিতল মাছ এর যত পুষ্টিগুণ, বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা।

January 28, 2024

পান পাতা কি? জেনেনিন পান পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা।

September 14, 2024
error: Content is protected !!