Skip to content
Home » MT Articles » ডায়রিয়া কি? ডায়রিয়ার লক্ষণ ও কারণ। ডায়রিয়া হলে করণীয় কি?

ডায়রিয়া কি? ডায়রিয়ার লক্ষণ ও কারণ। ডায়রিয়া হলে করণীয় কি?

ডায়রিয়া

ডায়রিয়া (Diarrhoea) কি?

ডায়রিয়া হল একটি সাধারণ অন্ত্রের ব্যাধি যা পায়খানার স্বাভাবিক নিয়মের পরিবর্তনের সাথে জড়িত। এটি সাধারণত দিনে তিন বা তার বেশি বার পাতলা বা তরল পায়খানা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। ডায়রিয়া হলে প্রায়শই বমি, পেটে ব্যথা এবং গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। এ রোগটি সাধারণত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়। যে সকল মানুষ খাবার গ্রহণের আগে ভাল করে সাবান অথবা ডিটারজেন্ট দিয়ে হাত ধৌত না করে তারা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে এ রোগটি সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণভাবে নিরাময় যোগ্য।

ডায়রিয়ার লক্ষণ :

ডায়রিয়ার প্রধান লক্ষণ হল দিনে তিন বা তার বেশি বার পাতলা বা তরল পায়খানা। অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • বমি
  • পেটে ব্যথা
  • গ্যাস
  • জ্বর
  • দুর্বলতা
  • মাথাব্যথা
  • পেশী ব্যথা
  • তৃষ্ণা

আরোও পড়ুন

আমাশয় কি? আমাশয়ের লক্ষণ ও ধরণ। আমাশয় হলে করণীয় কি?

ডায়রিয়ার লক্ষণগুলির তীব্রতা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, ডায়রিয়া গুরুতর হতে পারে এবং পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। পানিশূন্যতার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
  • মুখ এবং জিহ্বা শুষ্ক হওয়া
  • তৃষ্ণা বৃদ্ধি
  • মাথা ঘোরা
  • ক্লান্তি

শিশুদের মধ্যে, ডায়রিয়া গুরুতর হতে পারে এবং দ্রুত পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। শিশুদের মধ্যে পানিশূন্যতার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

ডায়রিয়া এর লক্ষণ
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
  • মুখ এবং জিহ্বা শুষ্ক হওয়া
  • তৃষ্ণা বৃদ্ধি
  • মাথা ঘোরা
  • ক্লান্তি
  • চোখের কোটগুলি ভেজা না হওয়া

ডায়রিয়ার হওয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ। যেমন-

  • ভাইরাস, যেমন- রোটাভাইরাস
  • ব্যাকটেরিয়া, যেমন সালমোনেলা বা ই কোলাই
  • পরজীবী, যেমন জিয়ার্ডিয়া
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া
  • কিছু ওষুধ
  • নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিস্থিতি, যেমন আলসারেটিভ কোলাইটিস

ডায়রিয়া সাধারণত গুরুতর নয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে নিজেই সেরে যায়। তবে, গুরুতর ডায়রিয়া গুরুতর পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে, যা শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক হতে পারে।

ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে, পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। ডায়রিয়া কমাতে সাহায্য করার জন্য কিছু ওষুধও পাওয়া যায়।

এ রোগে যে ল্যাব টেষ্ট করতে হয়:

  • ষ্টুল আর/এম/ই , কালচার এন্ড সেনসিটিভিটি
  • সিরাম ইলেক্ট্রোলাইট

ডায়রিয়ার ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করুন:

  • ভালভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া
  • পরিষ্কার পানি পান করা
  • ফল এবং সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
  • জনসমাগম এড়ানো
  • হাত নিয়মিত ধুয়ে ফেলা

ডায়রিয়া হলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মনে রাখবেন:

  • প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, বিশেষ করে পানি, স্যালাইন পানীয়।
  • ভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • যদি আপনার বমি হয়, তাহলে ছোট ছোট খাবার এবং তরল পান করুন।
  • যদি আপনার ডায়রিয়া তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয় বা যদি আপনার জ্বর, রক্ত ​​বা মিউকাস সহ পায়খানা হয়, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন

ডায়রিয়া হলে করণীয়:

ডায়রিয়ায় করণীয়
  • পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা। ডায়রিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং লবণ বেরিয়ে যায়, যা পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পানি, স্যালাইন পানীয় পান করতে পারেন।
  • তরল খাবার খাওয়া।যেমন-কাঁচা কলা সিদ্ধ, ভাত  খেতে পারেন। ডায়রিয়ার সময় ভাজা বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • বিশ্রাম নেওয়া। ডায়রিয়ার সময় আপনার শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
  • নিজের যত্ন নেওয়া। হাত নিয়মিত ধুয়ে ফেলুন, বিশেষ করে পায়খানা করার পর, খাবার খাওয়ার আগে এবং শিশুদের পরিচর্যা করার আগে।

শিশুদের ক্ষেত্রে, ডায়রিয়া গুরুতর হতে পারে এবং দ্রুত পানিশূন্যতার কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের ডায়রিয়া হলে বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। শিশুকে প্রচুর পরিমাণে তরল পান করান এবং তরল খাবার খাওয়ান। শিশু যদি বমি করে, তাহলে ছোট ছোট খাবার এবং তরল পান করান। শিশুর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

error: Content is protected !!